• আপডেট টাইম : 02/10/2026 10:41 PM
  • 36 বার পঠিত
  • শরীফুল ইসলাম, কুষ্টিয়া
  • sramikawaz.com
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে মাদক সেবনের জন্য বাবার কাছে ২০০ টাকা চাওয়ার পর ২০ টাকা দেওয়াকে কেন্দ্র করে বাবাকে মারধরের ঘটনায় ছোট ভাইয়ের হাতে বড় ভাই এমদাদ হোসেন রাসেল (৩৫) খুন হয়েছে। ডাব কাটার হাসুয়া দিয়ে তাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ছোট ভাই ইমরান হোসেন (৩০) এর বিরুদ্ধে।
 
গুরুতর আহত হয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাসেলের মৃত্যু হয়। 
 
২ অক্টোবর আজ শুক্রবার সকালে উপজেলার হোগলবাড়িয়া ইউনিয়নের তাজপুর গ্রামে এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত মাদকাসক্ত রাসেল একই গ্রামের ডাব ব্যবসায়ী আহাদ হোসেনের বড় ছেলে। ছোট ছেলে অভিযুক্ত ইমরান হোসেন শিল্পনগরী আল্লারদর্গায় একটি পারটেক্স কোম্পানিতে চাকরি করেন।
 
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে রাসেল তার বাবা আহাদ হোসেনের কাছে ২০০ টাকা চান। রাসেল দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত থাকায় তার অত্যাচারে পরিবারের সদস্যরা অতিষ্ঠ ছিল বলে স্থানীয়রা জানান। এ কারণে বাবা আহাদ হোসেন ২০০ টাকার পরিবর্তে তাকে ২০ টাকা দিয়ে চলে যেতে বলেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে রাসেল তার বাবাকে মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
 
 বাবাকে মারধরের ঘটনা জানতে পেরে ছোট ভাই ইমরান হোসেন বাড়িতে গিয়ে বাবার ডাব কাটার হাসুয়া দিয়ে রাসেলের পায়ে কোপ দিলে সে গুরুতর আহত হন। এলাকাবাসী ও পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কুষ্টিয়া জেনারের হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে রাসেলের মৃত্যু হয়। নিহত রাসেলের বিরুদ্ধে দৌলতপুর থানায় ৩টি এবং ঈশ্বরদী থানায় একটি মাদকের মামলা রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। এ ঘটনার পর অভিযুক্ত ছোট ভাই ইমরান হোসেন পলাতক রয়েছেন। 
 
এদিকে রাসেলকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার সময় অ্যাম্বুলেন্সের সঙ্গে থাকা ৩ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়েছে পুলিশ।
 
এবিষয়ে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান জানান, রাসেল তার বাবার কাছে ২০০ টাকা চায়। বাবা ২০০ টাকার পরিবর্তে ২০ টাকা দেওয়ায় রাসেল ক্ষুব্ধ হয়ে তার বাবাকে মারধর করে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ছোট ভাই ইমরান বাড়িতে থাকা হাসুয়া দিয়ে রাসেলের পায়ে কোপ দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে কুষ্টিয়া ও পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাসেলের মৃত্যু হয়।
 
রাসেলকে রাজশাহীতে নেওয়া অ্যাম্বুলেন্সে থাকা ৩ স্বজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে। অভিযুক্ত ইমরান বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। নিহতের লাশ ময়না তদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল পাটানোর প্রক্রিয়া চলছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...