• আপডেট টাইম : 25/09/2026 06:50 AM
  • 75 বার পঠিত
  • শরীফুল ইসলাম, কুষ্টিয়া
  • sramikawaz.com
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ছড়াচ্ছে অ্যানথ্রাক্স রোগ। উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় অ্যানথ্রাক্স (তড়কা) রোগ ছড়িয়ে পড়েছে। প্রায় প্রতিদিনই উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে এ রোগের উপসর্গ নিয়ে রোগীরা দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসছেন।
 
 গত আগস্ট মাস থেকে ২৪ সেপ্টেম্বা বৃহস্পতিবার পর্যন্ত এ উপজেলায় মোট ৫৪ জন অ্যানথ্রাক্সে রোগে আক্রান্ত হয়েছেন বলে  উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে।
 
দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ২৪ জন অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গত আগস্ট মাসে ৩০ জন রোগী চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়েছেন। এ পর্যন্ত ৫জন রোগীর অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসা শেষে তারাও সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
 
অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্তদের মধ্যে উপজেলার তারাগুনিয়া এলাকার সাধন, ফিলিপনগর এলাকার রোহান, হোসেনাবাদ এলাকার আফরিন, সাদিপুর এলাকার মিনহাজ, আমদহ এলাকার সুমন, গোয়ালগ্রাম এলাকার রবিউল, রিফায়েতপুর এলাকার আসমান, ইব্রাহিম ও পচামাদিয়া এলাকার সোহেল রানাসহ বিভিন্ন এলাকার রোগী রয়েছেন।
 
উপজেলার মথুরাপুর এলাকার তাসেন আলী (৪০) চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়েছেন। তিনি জানান, হঠাৎ তার হাতে একটি ঘা তৈরি হয়। প্রাথমিকভাবে চিকিৎসা নিলেও ঘা ভালো হচ্ছিল না। পরে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর অ্যানথ্রাক্স শনাক্ত হয়। এরপর এক সপ্তাহ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেন তিনি ।
 
রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ভাগজত এলাকার সেলিম হোসেন (৩৩) জানান, গরুর মাংস কাটার সময় তার হাতে কেটে যায়। পরে সেখানে ঘা সৃষ্টি হয়। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) হাসপাতালে গেলে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর অ্যানথ্রাক্স শনাক্ত হয়। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবনের পর বর্তমানে অনেকটাই সুস্থবোধ করছেন তিনি।
 
অ্যানথ্রাক্স একটি ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রামক রোগ, যা সাধারণত আক্রান্ত গবাদিপশুর মাধ্যমে মানুষের শরীরে ছড়ায়। আক্রান্ত গরু, ছাগল, মহিষ বা ভেড়ার মাংস কাটা, চামড়া বা দেহাবশেষ নাড়াচাড়া করার সময় জীবাণু মানুষের শরীরে প্রবেশ করতে পারে। বিশেষ করে হাতে বা শরীরে কাটা বা ক্ষত থাকলে সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
 
অ্যানথ্রাক্স প্রতিরোধে অসুস্থ বা হঠাৎ মারা যাওয়া গবাদিপশু জবাই না করা, এসব পশুর মাংস কেনাবেচা ও খাওয়া থেকে বিরত থাকা এবং আক্রান্ত পশুর দেহাবশেষ খালি হাতে নাড়াচাড়া না করার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। পশু অসুস্থ হলে দ্রæত সংশ্লিষ্ট প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদের জানানো এবং শরীরে সন্দেহজনক ক্ষত দেখা দিলে দ্রæত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি বলে চিকিৎসকরা উল্লেখ করেন।
 
এ বিষয়ে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডা. তৌহিদুল হাসান তুহিন বলেন, অ্যানথ্রাক্স গবাদিপশু থেকে মানুষের মধ্যে ছড়ায়। আক্রান্ত গরু-ছাগল জবাই করা কিংবা এসব পশুর মাংস ও দেহাবশেষ নাড়াচাড়া করার মাধ্যমে মানুষ আক্রান্ত হতে পারে। তাই জনসচেতনতা বাড়াতে হবে এবং অসুস্থ বা অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত গবাদিপশু জবাই ও কেনাবেচা থেকে বিরত থাকতে হবে।
 
তিনি আরো জানান, গত আগস্ট মাস থেকে গতকাল ২৪ সেপ্টেম্বও বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দৌলতপুরে মোট ৫৪ জন এ রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে অনেকেই চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বর্তমানে ২৪ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গুরুতর ৫ জন রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়ার পর তারাও সুস্থ হয়েছেন। তবে এতে আতঙ্কিত না হয়ে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...