গার্মেন্টস শ্রমিকদের মজুরি বোর্ড দ্রুত পুনর্গঠন ও নতুন মজুরি ঘোষণার দাবিতে শ্রমিক সমাবেশ করেছে গার্মেন্টস শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (জি-স্কপ)।
৯ অক্টোবর শুক্রবার বিকাল ৪টায় গাজীপুর আঞ্চলিক কমিটির উদ্যোগে মাওনা চৌরাস্তা এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জি-স্কপের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সমন্বয়ক ও শ্রমিকনেতা বাচ্চু মিয়া। সভাপতিত্ব করেন জি-স্কপ গাজীপুর আঞ্চলিক কমিটির যুগ্ম সমন্বয়ক ফারহানা আলেয়া এবং সঞ্চালনা করেন আঞ্চলিক কমিটির যুগ্ম সমন্বয়ক শাজাহান সিরাজ।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জি-স্কপের কেন্দ্রীয় নেতা এম. এ. সালাম ও আসাদুজ্জামান আসাদ। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন জেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ আল আমিন হাওলাদার শ্রাবণ, মোর্শেদ আলম কাউছার, মো. শরিফ, মো. আজিজুল, মো. হানিফ ও মো. ফরহাদসহ জি-স্কপভুক্ত ১৭টি সংগঠনের কেন্দ্রীয়, জেলা ও আঞ্চলিক পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা, যাতায়াত ও অন্যান্য জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির ফলে গার্মেন্টস শ্রমিকদের জীবনযাপন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। বর্তমান মজুরিতে শ্রমিকদের পক্ষে নিজেদের ও পরিবারের মৌলিক চাহিদা পূরণ করা ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছে। অথচ শ্রমিকদের শ্রম ও অবদানের ওপর দাঁড়িয়েই দেশের তৈরি পোশাকশিল্প ও রপ্তানি অর্থনীতি এগিয়ে চলেছে।
বক্তারা আরও বলেন, সরকারি জাতীয় বেতন স্কেল, জাতীয় শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ)-এর জাতীয় ন্যূনতম মজুরির দাবি, দেশের দারিদ্র্য পরিস্থিতি, মূল্যস্ফীতি এবং এশিয়ার অন্যান্য পোশাক উৎপাদনকারী দেশের মজুরি কাঠামো বিবেচনায় নিয়ে গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য ন্যায্য, বৈষম্যহীন ও জীবনধারণযোগ্য মজুরি নির্ধারণ করতে হবে। শ্রমিকের মজুরি নির্ধারণে শুধু শিল্পের মুনাফা বা রপ্তানি প্রতিযোগিতাকে বিবেচনায় নিলে চলবে না; শ্রমিক ও তাঁদের পরিবারের সম্মানজনক জীবনযাপনের অধিকারকেও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
বক্তারা বলেন, মজুরি বোর্ড পুনর্গঠন ও নতুন মজুরি ঘোষণার ক্ষেত্রে আর কোনো দীর্ঘসূত্রতা গ্রহণযোগ্য নয়। শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির প্রতি সম্মান জানিয়ে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
সমাবেশ থেকে সরকারের প্রতি চূড়ান্ত আহ্বান জানিয়ে বক্তারা বলেন, অবিলম্বে মজুরি বোর্ড পুনর্গঠন করে দ্রুত মজুরি ঘোষণা করুন এবং ২০২৬ সালের ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই নতুন ঘোষিত মজুরি শ্রমিকদের হাতে পৌঁছে দিতে হবে। কোনো অজুহাতে নতুন মজুরি কার্যকরে বিলম্ব করা চলবে না। শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা দয়া নয়, অধিকার। শ্রমিকের অধিকার প্রতিষ্ঠায় জি-স্কপের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
এ জাতীয় আরো খবর..