• আপডেট টাইম : 19/09/2026 06:36 PM
  • 57 বার পঠিত
  • আওয়াজ প্রতিবেদক , ঢাকা
  • sramikawaz.com

সরকারের তৈরি পে-স্কেল ও নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে চরম বৈষম্যের শিকার পোশাক খাতের শ্রমিকরা। এমন পরিস্থিতিতে অবিলম্বে মজুরি বোর্ড পুনর্গঠন এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে শ্রমিকদের বেঁচে থাকার উপযোগী সর্বনিম্ন মজুরি ঘোষণার দাবি জানিয়েছে ইন্ডাস্ট্রিঅল বাংলাদেশ কাউন্সিল (আইবিসি)।

১৯ সেপ্টেম্বর শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের নেতারা এ দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলনে আইবিসির পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন স্বপন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সালাউদ্দিন স্বপন বলেন, শ্রম আইন অনুযায়ী ৩ বছর পর পর ন্যূনতম মজুরি পুনর্নির্ধারণের বিধান থাকলেও সরকার এখনও মজুরি বোর্ড পুনর্গঠনে কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেয়নি। ২০২৩ সালের নভেম্বরে ঘোষিত সর্বশেষ মজুরির ৩ বছর পূর্ণ হতে যাচ্ছে আগামী নভেম্বর ২০২৬-এ। আইনের ধারা অনুযায়ী মে মাসের মধ্যেই বোর্ড পুনর্গঠনের কথা থাকলেও তা করা হয়নি। গত ৪ আগস্ট শ্রমমন্ত্রীকে চিঠি দিলেও সরকার উদাসীন রয়ে গেছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও শ্রম আইনের ব্যত্যয়।

সরকারি কর্মচারীদের পে-স্কেল পুনর্নির্ধারণের প্রভাব তুলে ধরে আইবিসি সাধারণ সম্পাদক বলেন, সম্প্রতি সরকারি কর্মচারীদের সর্বনিম্ন পে-স্কেল ২০,০১০ টাকা থেকে ১৪২ শতাংশ বাড়িয়ে ৪৮,৪০০ টাকা করা হয়েছে। সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ার পরপরই বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম হু হু করে বাড়ছে। একই বাজারে কেনাকাটা করতে গিয়ে নিম্ন আয়ের গার্মেন্টস শ্রমিকরা আজ দিশেহারা। সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে শ্রমিকের বিশাল বৈষম্য তৈরি হয়েছে। তাই সরকারি পে-স্কেলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অবিলম্বে নতুন নিম্নতম মজুরি নির্ধারণ করা এখন সময়ের দাবি।

আইবিসি নেতারা বিগত ২০ বছরের একটি চিত্র তুলে ধরে অভিযোগ করেন, ২০০৬ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত পোশাকশিল্পের মালিকদের ভাগ্য বদলেছে বহুগুণ। মালিকরা ব্যাংকের টাকা লুটপাট, ভুয়া এলসি খুলে হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছেন এবং অনেকে একাধিক কারখানা বা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের মালিক হয়েছেন। কিন্তু শ্রমিকদের অবস্থা 'দিন আনে দিন খায়'-তেই আটকে আছে। বেতন সামান্য বাড়লেই সাথে সাথে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও জীবনযাত্রার ব্যয় বহুগুণ বেড়ে যায়। যখনই শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরির প্রশ্ন ওঠে, তখনই মালিকরা 'ব্যবসা নেই' বা 'কারখানা বন্ধ হয়ে যাবে' বলে হাহাকার শুরু করেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়, করোনাকালীন কঠিন সময়ে যখন সব পেশার মানুষ ঘরে বন্দি ছিল, তখন এই গার্মেন্টস শ্রমিকরাই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রেখেছিলেন।

আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘ইন্ডাস্ট্রিঅল গ্লোবাল ইউনিয়ন’-এর প্রসঙ্গ টেনে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বিশ্বব্যাপী ১৩০টি দেশের ৫৫০টিরও বেশি ট্রেড ইউনিয়নের প্রায় ৫ কোটি সদস্যের প্রতিনিধিত্ব করছে এই সংস্থা। বাংলাদেশে এর অধিভুক্ত ১৯টি শ্রমিক সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত আইবিসি, যা দেশের গার্মেন্টস খাতের প্রায় ৭০ শতাংশ সংগঠিত শ্রমিকের প্রতিনিধিত্ব করে।

সংবাদ সম্মেলন থেকে শ্রমিক নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, গার্মেন্টস শ্রমিকদের পিঠ আজ দেয়ালে ঠেকে গেছে। অনতিবিলম্বে মজুরি বোর্ড গঠন করে বাস্তবসম্মত ও মানবিক মজুরি না দেওয়া হলে শ্রমিকরা তাদের অধিকার আদায়ে কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...