• আপডেট টাইম : 05/09/2026 07:46 PM
  • 77 বার পঠিত
  • শরীফুল ইসলাম, কুষ্টিয়া
  • sramikawaz.com

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে আলোচিত ‘পীর’ শামীম জাহাঙ্গীর ওরফে আব্দুর রহমানের কবরস্থানে দাফন করা লাশ দীর্ঘ ৫ মাস পর কবর থেকে তুলে তাঁর দরবারে বা আস্তানায় দাফন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। 

 

৪ সেপ্টেম্বর শুক্রবার দিবাগত গভীরাতে পীরের ভক্তরা শামীমের লাশ কবর থেকে তুলে দরবারে নিয়ে দাফন করেন বলে স্থানীয়রা জানান। 

 

খবর পেয়ে দৌলতপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দরবার বা পীরের আস্তানা থেকে পীরের দাফনকরা লাশ তুুলে শনিবার বিকেল ৫টার দিকে পুনরায় কবরস্থানে নিয়ে নিজ কবরে পুন:স্থাপন করেছেন।

 

স্থানীয় সূত্র জানায়, পীর শামীম নিহত পর থেকেই তাঁর ভক্তদের একটি অংশ কবর থেকে লাশ তুলে দরবারে দাফনের চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন। এ কারণে পীরকে দাফনের পর বেশ কিছুদিন ওই কবরস্থানে পুলিশ পাহারায় ছিল। তবে শুক্রবার দিবাগত রাতের কোনো এক সময় ভক্তরা কবর থেকে লাশ তুলে দরবারে নিয়ে পুনরায় দাফন করেছে। ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্য ও উত্তেজনার সৃষ্টি হলে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

 

পীর শামীমের ভাই মো. ফজলুর রহমান সান্টু বলেন, রাতের আঁধারে কারা কীভাবে কবরস্থান থেকে লাশ উত্তোলন করে দরবারে নিয়ে গেছে, সে বিষয়ে আমরা কিছুই জানি না। সকালে ঘুম থেকে উঠে ঘটনাটি দেখতে পেয়ে পুলিশ প্রশাসনকে খবর দিই। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে।

 

এ বিষয়ে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, কবরস্থান থেকে পীর শামীমের লাশ তুলে দরবারে দাফন করা হয়েছেÑএমন খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনা করে দরবার থেকে লাশটি উত্তোলন করে আগের কবরস্থানে পুনরায় দাফন বা পুন:স্থপান করা হয়।

 

তিনি বলেন, এ ঘটনায় এখনো কাউকে আটক করা হয়নি। তবে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত, তদন্তের মাধ্যমে তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে। পরিস্থিতি নিয়ে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে কি না জানতে চাইলে ওসি বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটার আশঙ্কা নেই।

 

দৌলতপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রদীপ কুমার দাস বলেন, কবরস্থান থেকে লাশ উত্তোলন করে দরবারে দাফন করার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যা্ই। পরে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলে লাশটি আগের কবরস্থানে পুনরায় দাফনের ব্যবস্থা করা হয়।

 

তিনি আরও বলেন, এ ধরনের কর্মকাÐের সঙ্গে যারা জড়িত, তদন্তের মাধ্যমে তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।

 

পবিত্র কোরআন অবমাননার অভিযোগ এনে ১১ এপ্রিল দুপুর আড়াইটার দিকে দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলিপনগর গ্রামে বিভিন্ন বয়সী দুই শতাধিক বিক্ষুব্ধ জনতা পীর শামীম জাহাঙ্গীরের আস্তানা বা দরবারে হামলা চালায়।

 

 এসময় কিলার রাজিব মিস্ত্রিসহ হামলাকারী যুবকরা পীর শামীমকে তার কক্ষ থেকে টেনে হেঁচড়ে বের করে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে তাকে দোতলা থেকে নীচে ছুড়ে ফেলে।

 

 এরপর হামলাকারীরা সংগবদ্ধভাবে আস্তানায় আগুন জ¦ালিয়ে ভাঙচুর ও ব্যাপক লুটপাটের তান্ডলীলা চালায়। নিহত পীরের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরদিন ১২ এপ্রিল বিকেলে একই ইউনিয়নের দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলিপনগর (পাঁচশত বিঘা) কবরস্থানে দাফন করা হয়।

 

হত্যাকান্ডের ৩দিন পর ১৩ এপ্রিল রাতে নিহতের বড় ভাই অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক ফজলুর রহমান সান্টু বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় ৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ১৮০-২০০ জনকে আসামি করা হয়।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...