• আপডেট টাইম : 03/11/2026 10:19 PM
  • 117 বার পঠিত
  • শরীফুল ইসলাম, কুষ্টিয়া
  • sramikawaz.com
 
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে গ্রামবাসীকে একত্র করে পুলিশের উপস্থিতিতে ১২টি দোকানঘর ও গোডাউন ভাঙচুর এবং লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। 
 
এ ঘটনায় অভিযুক্ত ওই বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দিতে গেলে ভুক্তভোগীদের বাড়িঘর অবরুদ্ধ করে রাখা হয় এবং দেওয়া হয় প্রাণনাশের হুমকি বলে ভূক্তভোগীদের অভিযোগ। 
 
২ নভেম্বা সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলার মরিচা ইউনিয়নের হাটখোলাপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত সোনা মহলদার মরিচা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বলে দলীয় সূত্রে জানাগেছে।
 
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হাটখোলাপাড়া এলাকার মৃত খলিল দফাদারের ৬ ছেলে দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে প্রবাসজীবন কাটাচ্ছেন। সম্প্রতি তাঁদের মধ্যে সুনারুল দফাদার ও শওকত দফাদার দেশে ফিরে আসেন। এরপর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সোনা মহলদার এবং স্থানীয় সিদ্দিক মহলদার ও নুরু মহলদারসহ কয়েকজন ব্যক্তি হাটখোলাপাড়া কবরস্থানের সভাপতি লিটন মালিথাকে সঙ্গে নিয়ে তাঁদের পৈতৃক সম্পত্তিতে নির্মিত দোকানঘর ও গোডাউন মার্কেটের জমি কবরস্থানের বলে দাবি করেন। 
 
এ নিয়ে জমি ও মার্কেট দখলের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
 
ভুক্তভোগীদের দাবি, প্রায় ৫০-৬০ বছর আগে তাঁদের দাদা হাটখোলাপাড়া কবরস্থানের জন্য ১৯৬২ সালের এসএ রেকর্ডভুক্ত জমি বিক্রয় করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে ১৯৭৪ সালে আরএস রেকর্ড হওয়ার সময় মূল দাগটি ৩টি দাগে বিভক্ত হয়। তবে কবরস্থানের জমি এবং তাঁদের মার্কেটের জমির দাগ সম্পূর্ণ আলাদা। 
 
কবরস্থানের জমির সঙ্গে মার্কেটের কোনো সম্পর্ক নেই। রাস্তা সংলগ্ন ও মূল্যবান হওয়ায় তাঁদের জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে। এ নিয়ে বিভিন্ন সময় বিরোধ সৃষ্টি করা হলেও প্রতিপক্ষ জমির কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেনি বলে অভিযোগে তাঁরা উল্লেখ করেন।
 
স্থানীয়রা জানান, সোমবার সন্ধ্যায় হাটখোলা জামে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে কবরস্থানের সদস্য ও স্থানীয় লোকজনকে একত্র করা হয়। পরে তাঁদের দোকানঘর ও গোডাউন ভাঙচুর এবং মালামাল লুটপাট করা হয়। 
 
এ সময় সোনা মহলদার ঘোষণা দেন, যেসব পরিবারের সদস্যরা ভাঙচুরে অংশ নেবেন না, তাঁদের মরদেহ ওই কবরস্থানে দাফন করতে দেওয়া হবে না। এমন ঘোষণায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয় এবং সামাজিক চাপ সৃষ্টি করে ভাঙচুরে অংশ নিতে বাধ্য করা হয়।
 
ভুক্তভোগী সুনারুল দফাদার জানান, আমাদের দাদা কবরস্থানের জন্য জমি বিক্রি করেছিলেন। কিন্তু বর্তমানে যে জমিতে মার্কেট ও দোকানপাট বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে, তার সঙ্গে কবরস্থানের জমির কোনো সম্পর্ক নেই। জোরপূর্বক আমাদের দোকানপাট ভাঙচুর ও জমি দখল করা হয়েছে। 
 
পুলিশের উপস্থিতিতেই এ ঘটনা ঘটেছে। সোনা মহলদার ও কবরস্থানের সভাপতি লিটন মালিথা মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে কবরস্থানের সদস্যদের ডেকে এনে ভাঙচুরে বাধ্য করেছেন।
 
তিনি আরও বলেন, আমি থানায় মামলা করতে গেলে আমার বাড়িঘর অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। বাইরে বের হলে বাড়িঘর ভাঙচুর ও আমাদের মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমি জীবনের নিরাপত্তা এবং পৈতৃক সম্পত্তি জবরদখলের ঘটনায় সুষ্ঠু বিচার চাই।
 
তবে এমন অভিযোগ অস্বীকার করে বিএনপিনেতা সোনা মহলদার বলেন, ওই সম্পত্তি কবরস্থানের। তারা দীর্ঘদিন ধরে জোরপূর্বক জমিটি ভোগদখল করে আসছেন। এ কারণে কবরস্থানের সদস্যসহ প্রায় ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজার মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে তাদের দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাট করেছেন। এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। ঘটনার সময় আমি এমপি সাহেবের বাসায় ছিলাম।
 
এ বিষয়ে কবরস্থানের সভাপতি লিটন মালিথা বলেন, মার্কেটের জমিটি কবরস্থানের সম্পত্তি। বারবার বলা সত্তে¡ও তারা জমিটি কবরস্থানের দখলে দিচ্ছিলেন না। এ কারণে এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে তাদের নির্মিত দোকানঘর ও গোডাউন ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে। তবে জমির মালিকানা-সংক্রান্ত কাগজপত্র দেখতে চাইলে তিনি কোনো কাগজ দেখাতে পারেননি।
 
পুলিশের উপস্থিতিতে দোকানঘর ও গোডাউন ভাঙচুর এবং লুটপাটের অভিযোগের বিষয়ে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, ঘটনাটি শুনেছি। ভাঙচুরের বিষয়টিও জেনেছি। তবে এখন পর্যন্ত লিখিত কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
 
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ভুক্তভোগীরা দীর্ঘদিন সৌদি আরবে থাকায় তাঁদের অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে পৈতৃক সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, লুট হওয়া মালামাল উদ্ধার এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...