• আপডেট টাইম : 07/11/2026 11:07 PM
  • 1 বার পঠিত
  • মো. হাসান আলী
  • sramikawaz.com

বাংলাদেশ ন্যাশনাল ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন (BNTUF)-এর কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, শ্রমিক নেতা শামীম হাসানের গ্রেপ্তারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। একই সঙ্গে অবিলম্বে তাঁর নিঃশর্ত মুক্তি এবং যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানাচ্ছি।

শ্রমিক নেতা শামীম হাসান গত এক সপ্তাহ ধরে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে উত্তরা আইসি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তাঁর শারীরিক অবস্থা এতটাই গুরুতর ছিল যে, তাঁকে চার ব্যাগ রক্ত দিতে হয়েছে। দীর্ঘ চিকিৎসার পর গত ১ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে তিনি কিছুটা সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পান এবং আশুলিয়ার জিরাবোতে নিজ বাসায় বিশ্রামে ছিলেন।

কিন্তু অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও অমানবিক বিষয় হলো, হাসপাতাল থেকে সদ্য ছাড়া পাওয়া একজন গুরুতর অসুস্থ শ্রমিক নেতাকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে ৩ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—যে ব্যক্তি ১ নভেম্বর পর্যন্ত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন এবং ডেঙ্গু থেকে সেরে ওঠার জন্য বিশ্রামে ছিলেন, তাকে কীভাবে ৩১ অক্টোবরের ঘটনার মামলায় আসামি করা হলো?

এই ঘটনা শুধু একজন শ্রমিক নেতার গ্রেপ্তারের বিষয় নয়; এটি আইনের যথাযথ প্রয়োগ, ন্যায়বিচার, মানবিকতা এবং শ্রমিকের অধিকার নিয়ে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করে।

একজন ডেঙ্গু আক্রান্ত গুরুতর অসুস্থ মানুষকে নিয়মিত চিকিৎসা, চিকিৎসকের পরামর্শ, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ওষুধ সেবনের মধ্যে থাকতে হয়। এমন অবস্থায় তাকে গ্রেপ্তার করে চিকিৎসার স্বাভাবিক ধারাবাহিকতা ব্যাহত করা তার জীবন ও স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে এর দায় কে নেবে!

শ্রমিকদের ২৬০ ডলার ন্যূনতম মজুরির দাবিতে সংহতি প্রকাশ করাই কি অপরাধ? ইন্ডাস্ট্রিঅল বাংলাদেশ কাউন্সিল (IBC) বাংলাদেশের গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য ২৬০ মার্কিন ডলার ন্যূনতম মজুরি ঘোষণার দাবি তুলে ধরেছে। শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করার এই দাবির প্রতি IBC-এর নেতৃবৃন্দ সংহতি প্রকাশ করেছেন।

ন্যায্য মজুরির দাবি কোনো অপরাধ নয়। শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয়, খাদ্য, বাসস্থান, চিকিৎসা, শিক্ষা ও পরিবারের মৌলিক চাহিদা বিবেচনায় ন্যায্য মজুরির দাবি একটি যৌক্তিক ও মানবিক দাবি।
এই দাবির প্রতি সংহতি প্রকাশ করার কারণে কোনো শ্রমিক নেতা বা ট্রেড ইউনিয়ন নেতাকে হয়রানি, ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার করা হলে তা শ্রমিক আন্দোলনের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক অধিকারকে বাধাগ্রস্ত করে।

ন্যায্য মজুরির দাবিতে সংহতি প্রকাশ করা মানেই একজন অসুস্থ শ্রমিক নেতাকে গ্রেপ্তার করার অধিকার তৈরি হওয়া নয়।শ্রমিকের অধিকার ও মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে।
শ্রমিক নেতাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে তা আইনানুগ ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় তদন্ত করতে হবে। কিন্তু একজন গুরুতর অসুস্থ ব্যক্তির চিকিৎসা, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচারের অধিকার কোনোভাবেই উপেক্ষা করা যায় না। এখন পর্যন্ত নয়জন শ্রমিক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে, এই গ্রেফতার করা কি শুধু শ্রমিক নেতার জন্যই প্রযোজ্য নাকি যারা অপরাধী তাদের জন্য প্রযোজ্য, ট্রেড ইউনিয়ন কে বাঁধাগ্রস্ত করার জন্য ও শ্রমিকদের অধিকার আদায় শাহস যেন না পায় সেজন্যে ভয় ও আতঙ্ক সৃষ্টি করাই কি এই গ্রেফতারের নমুন।

আমাদের স্পষ্ট দাবি—
১. শ্রমিক নেতা শামীম হাসানকে অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে।
২. তার বর্তমান শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় অবিলম্বে উন্নত চিকিৎসা ও নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ নিশ্চিত করতে হবে।
৩. তার চিকিৎসা, ওষুধ সেবন ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার কোনো বিঘ্ন ঘটানো যাবে না।
৪. ৩১ অক্টোবরের ঘটনার মামলায় তাঁকে আসামি করার বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে এবং তাঁর গ্রেপ্তারের আইনগত ভিত্তি স্বচ্ছভাবে নিশ্চিত করতে হবে।
৫. শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, ট্রেড ইউনিয়নের স্বাধীনতা এবং গণতান্ত্রিক শ্রমিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
আমরা আবারও দৃঢ়ভাবে বলতে চাই, শ্রমিকের ন্যায্য মজুরির দাবি অপরাধ নয়, শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের আন্দোলন অপরাধ নয়, শ্রমিকদের পাশে দাঁড়ানো অপরাধ নয়।
একজন অসুস্থ শ্রমিক নেতার চিকিৎসা ও জীবন নিয়ে কোনো ধরনের অবহেলা গ্রহণযোগ্য নয়।

শ্রমিক নেতা শামীম হাসানের গ্রেপ্তারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে তাঁর অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করছি।


মোঃ হাসান আলী ,সাংগঠনিক সম্পাদক, বাংলাদেশ ন্যাশনল ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...